Posts

Showing posts from June, 2018

প্রেম অথবা ক্ষোভের পত্র

আমাদের শহরে মানে হৃদয়ের করিডোরে একবার এসে দেখে যেও, তোমরা কতোটা প্রেম ঠেলে দিয়ে দেউলিয়া হয়ে গ্যাছো। কতোটা প্রেম চাষ হয় সেখানে। কতোটা ক্ষত সেখানটায় বর্তমান,কতবার বোমারু বিমানের বোমা নিক্ষেপের মতোন অবহেলা ছুঁড়ে ধ্বংস করেছিলে ঈশ্বরের সবথেকে নিরাপদ আবাসস্থলকে। তুমিই বিরাজ করতে সেখানে প্রবল প্রতাপ নিয়ে। তুমি কিনা সেই সুন্দরকেই অবহেলায় ধ্বংস করে দিলে।হোহো করতে করতে তার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে গ্যালে। শহরজূড়ে ঘৃণার ঘোষণাপত্র আর ক্রুদ্ধ হুংকার। জরুরী ঘোষণা আসে শহরের স্বাস্থবিভাগ থেকে- "বাঁচতে হলে ভালোবাসতে ভুলে যান"। প্রধান ফটকে রক্ত রঙে সতর্কীকরণ বার্তা- "প্রেমিকাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ,এই শহর প্রেমিকাদের প্রহসনে পুড়ছে নিয়ত"।

দারিদ্র‍্য নিরুদ্দেশ,পেট ভরে খাবো বেশ

উন্নয়নের প্রস্তরখণ্ডের গায়ে শ্লোগান "ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ"। হতভম্ব হয়ে যাই আমি,শঙ্কিত হয়ে যাই। অসুন্দর এবং ভয়ানক এই শ্লোগান যদি বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয়ে যায় তবে বেঁচে থাকাটাই বৃথা হয়ে যাবে। ভয়ানক ক্ষুধার পর ভরপেট খাওয়া মানুষটার মুখে স্বর্গের মতোন হাসিটা আর দেখতে পাবোনা বলে। "আম্মারে দু'গা ভাত বারি দে ত।স্কুলে ভাত লই যাই ন,দুগা ভাত খাই চাই"। ভাত খাওয়া শেষে শ্রান্ত মা আমার ঢকঢক করে পানি খাবার সময় যে তৃপ্তি ফুটে উঠে তা আর দেখতে পাবোনা বলে।মা আমার কাছে ভাত চাইবেন না বলে। ইটভাঙা শ্রমিকের ভাত খাওয়া দেখেছেন কখনো?ইটের পাশে বসেই মুহূর্তেই আলুভাজি আর ভাত গায়েব করে দেওয়ার সময়টায় তার মুখজুড়ে যে অনৈচ্ছিক উচ্ছাস ফুটে উঠে তা শরতের আকাশ অথবা বর্ষার কদমফুলের অগুনতি গুণ সুন্দর। ক্ষুধা নিরুদ্দেশ হলে একা নিরুদ্দেশ হবেনা দেশ থেকে শেশ কটা সুন্দর দৃশ্য নিয়েই নিরুদ্দেশ হবে। কোনোভাবেই তাই ক্ষুধাকে নিরুদ্দেশ করার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবেনা। বরং, ক্ষুধা লাগবে,ভরপেট খাবো,আবার লাগবে আবার ভরপেট খাবো।এভাবে অগুন্তিবার.. ইচ্ছেমত ভরপেট খাবার মতো উন্নয়ন হোক,নিরুদ্দেশ হোক দারিদ্র। ...

একদিন ঠিক পৌঁছে যাবো হৃদয়ে অথবা কবরে

আমি সেদিন পাখিদের বলতে শুনেছি- চোখের সমুদ্র ধরে হেঁটে গ্যালে শেষটায় গিয়ে পাওয়া যায় প্রিয়তমার হৃদয়। আমি তাই- ইংলিশ চ্যানেল অথবা বাঙলা চ্যানেল বিজয়ের পরিকল্পনা ঠেলে অশ্রুসাগর পাড়ি দিয়ে রেকর্ডবুকে নাম লিখানোর পরিবর্তে তোমার হৃদয়ের অন্দরমহলে স্থান করে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যথায় মাটির বুক চিড়ে অদৃশ্য হয়ে যাবার ঝুঁকি নিয়েই। কারণ- আমি জানি অশ্রুসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কেউ বিফল ফেরেনা, হৃদয়ে অথবা কবরে ঠিক পৌঁছে যায়। আমি ও তাই, নিয়ম করে অবিরত এগিয়ে যাই তোমার হৃদয়ের পথে,চোখের সমুদ্র বেয়ে। একদিন ঠিক পৌঁছে যাবো গন্তব্যে যা লিখা ছিলো প্রেমিক ভাগ্যে।

আমি তোমাকে ভুলে যাবার কথা ভাবতেই পারিনা

তুমি চাইলেই এনে দিতে পারি লক্ষতারায় গাঁথা গলমাল্য,জ্যোছোনায় তোমার মুখ ধুয়ে দেবো যেকোনো কিছুর বিনিময়ে।তোমার বেণী করে দেবে কোনো দেবতা ভৃত্য। তুমি চাইলেই আমি ফুলেদের বলে দেবো বাইজি হয়ে নিয়ম করে নাচুক তোমার বিনোদন সন্ধ্যায়,পাখিরা গাইবে ক্ল্যাসিকাল অথবা নজরুল সঙ্গীত,চাইলে হয়ে যেতে পারে পাখিদের রক কনসার্ট। হাওয়ায় দুলবে আকাশ, নদীরা এসে ধুয়ে দেবে তোমার ঈশ্বরী পা। তুমি চাইলেই আমি চাঁদটাকে এনে বসিয়ে দেবো তোমার কপালে, নিয়ম করে সেবা করে যাবে হরিণের পাল। পৃথিবী চুলোয় যাবে যাক। তুমি চাইলেই আমি সব পেরে যাবো শুধু ভুলে যাওয়া ছাড়া। আমি তোমাকে ভুলে যাবার কথা ভাবতেই পারিনা।

মৃত্যুবিলাসিতা

জীবন সায়াহ্ন বুঝি এমনই সুন্দর হয়? বেলী,জুঁই আর গন্ধরাজের ঘ্রাণে একাকার থাকে সব? ঝর্ণাধারা নেমে আসে চোখ বুজলে,হঠাৎ এক শীতল বরফ খন্ড যেনো ছুঁয়ে যায় শিরদাঁড়া? কানে বাজছে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, চোখের সমুদ্র ধরে আগাতে গিয়ে দেখছি একটা শুভ্র পথ চলে গ্যাছে দখিনে,আমি তন্ময় হাঁটছি,নদীর কলকল শব্দ ভেসে আসছে।মোহনীয়তা আমাকে গ্রাস করে চলেছে। একটা কোকিল ডেকে উঠলো,প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমাকে এক অজানা সুখকর অনুভূতির স্বাক্ষী করছে। চির অশান্ত হৃদয় আজ যেনো আকাশের মতো সৌম্য,আজ অস্বাভাবিক প্রশান্ত। আমার জন্য অপেক্ষারত অশ্বযান দেখতে পাচ্ছি,সেখানে একটা শাদা ঘোড়া দাঁড়িয়ে। তার মায়া আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে।আমার কোনো ভয়-ডর-সঙ্কোচ অনুভব হচ্ছেনা। এই শাদা ঘোড়াই ডাকপিয়ন হয়ে আমার "প্রাণ"কে পৌঁছে দেবে স্থায়ী ঠিকানায়,এক অজানা শিহরণ বিয়ে যাচ্ছে আমার মাঝে... আমি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি আমার মৃত্যুর প্রিয় আয়োজকের কাছে। আমার ঠোঁট উচ্চারণ করে চলেছে "আহ!মৃত্যু কতো সুন্দর,এখানো কোনো ভণিতা নেই।" আমি উঠে পড়েছি মৃত্যুভেলায়,যেকোনো মুহূর্তে মিথ্যার সাথে আমার সব সম্পর্কের অবসান ঘটবে।

আমি শুনি আমার লাশ কাটার শব্দ

মর্গের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে গিয়ে হঠাৎ আমার কানে বাজে আমার নিজের লাশ কাটার শব্দ। আমি থমকে গিয়ে শুনতে থাকি আমার লাশের মর্মান্তিক আর্তনাদ। আমার বুকের ছাতিটা দ্বিখণ্ডিত করবার সময়য় আমার লাশ এক ভয়ানক চিৎকারে ইস্রাফিলের বুক কাঁপিয়ে বলতে থাকে "ওখানটায় আঘাত করোনা,ওখানে আমার প্রিয়তমা এবং বাঙলাদেশ চিরকাল জীবিত,ওরা আঘাত পাবে।" হো হো করে পৈশাচিক হাসি দিয়ে ঢকঢক আরো এক বোতল মদ টেনে আমাকে বলে গ্যালো "তোমার প্রেমিকা অন্য কোনো পুরুষ বুকের সজ্জায় ব্যস্ত সেখবর নেই তোমার কাছে? শালা বোকা কোথাকার।আর বাঙলাদেশ?"  এতটুকু বলতেই চোখ ভিজে ওঠে তার।শেষ বোতল মদ কাঁপতে কাঁপতে গিলে হঠাৎ এক ভয়ানক পৈশাচিক অথচ ক্রুদ্ধ স্বরে বলে উঠলো আমাদের বাঙলাদেশ মৃত আজ,সংসদ ভবনে নিয়ম করে তার ময়নাতদন্ত হয় প্রতিনিয়ত, প্রত্যেকদিন মৃত লাশটার উপর হামলে পড়ে সাড়ে তিনশত ডোম,খুবলে খায় ২ লাখ শকুন,বাঞ্চোদ তুই এই খবরটা ও রাখলিনা? তনু-নাদিয়া, স্রোতের মত মরে যেতে থাকা অসংখ্য মানুষের সাথে অগুন্তিবার কি ধর্ষিত হয়নি বাংলাদেশ? ক্রসফায়ারে প্রত্যেকদিন ঝাঁঝরা হয়ে যায়না বাঙলার বুক?তখন কোথায় ছিলি শালা শুয়োর?চুপ করে ছিলি বেঈমান।না...

তুমি নেমে আসো আন্দোলন

আন্দোলন আন্দোলন নেমে এসেছে যখন শহরে, আন্দোলন তুমি আরেকটু আপন হয়ে নেমে আসো বুকের পাঁজরে। নেমে আসো তুমি প্রেমিকার গালে, নেমে আসো তুমি আঁধার কিম্বা আলোতে অথবা দৈনন্দিন অপশাসনের বেড়াজাল ভেঙে। আন্দোলন আন্দোলন আমাদের স্বাধীকার কিম্ভা ভালোবাসার প্রিয় সম্ভাষন। তুমি নেমে আসো কবিতার ছন্দে,নেমে আসো শাহবাগ টিএসসি কিম্বা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধে। বদলে দিয়ে যাও সব কুৎসিত, সৌন্দর্যে। এনে দাও আবার একাত্তর কিম্বা বায়ানো এই আঠারোর উত্তাল সংগ্রামে। নেমে আসো তুমি চোখের পাতায়,বিদ্ধ করো ভালোবাসা সব বুলেট অথবা রাইফেলে। তুমি নেমে আসো আমাদের এই প্রিয় স্বদেশে। মুছে দাও যত বিভেদ ঘৃণা, আছে যতো অসুন্দর তুমি নেমে আসো আন্দোলন, তুমি দখল করে নাও ঝিমিয়ে পড়া বিপ্লবী চত্বর।

হয়তো প্রিয় শব্দটাও খুব আপেক্ষিক,এখানেও আছে ভেজাল

প্রিয়তমা,আকাশে ঠিক কতো তারা জাগলে আমাকে মনে পড়ে তোমার? ক'টা উল্কাপিণ্ড ঝরে গ্যালে আমাকে ভুলে যাবার আয়োজনটা জমকালো হয়ে ওঠে? কোন পুরুষের কন্ঠস্বর তোমাকে ঝিঁঝিঁর ডাকের মতোন করে নিয়ে যায় সেই সবুজ শৈশবে? যখন আমরা এতোটা শহুরে হয়ে উঠতে পারিনি,বাড়ির পাশে যখন লেবু গাছটা ছিলো,পুকুর পাড়ের পুরোনো শিমুল গাছটা ছিলো যখন,কুমড়োর মাচাঙে দোয়েলের শিস ভেসে আসা সকাল- সেই শৈশবটায়? সাপ্তাহিক হাটবারে দাদা প্রত্যেকবার  যখন তার বুড়ির জন্য সুপারি,পান,জর্দা নিয়ে ফিরতেন,দাদী অপেক্ষা করতেন তাঁর প্রিয় বুড়োর জন্য, সে কথা মনে পড়লে তোমার কি ইচ্ছে জাগে আবারো সরল গ্রাম্য মানুষ হয়ে যেতে? নাকি- তোমার সেসবে আর আহ্লাদ জাগেনা? প্রিয়তমা,আমি আজো প্রায়ই স্তব্ধ হয়ে যাই এই ভেবে, সেসব সোনালী দিনগুলা আমাদের কিংবা এ প্রজন্মের শহুরে অথবা শিক্ষানবিশ আধুনিক মফস্বলে আর কখনো ফিরবেনা। প্রিয়তমা,তোমার কি একটটু ও কষ্ট হয়না এই ভাঙনমুখী সভ্যতার কথা ভাবতে? নাকি- তুমি ও মিশে গ্যাছো এই আধুনিক আর সস্তা জীবনধারায়? ভাবতে শিখেছো "মানুষ বদলায়,সম্পর্ক ও চিরন্তন নয়।"? এখন আর দখিনের বাতাস কিম্বা নক্ষত্ররজনী প্রিয় মানুষকে ম...