দারিদ্র‍্য নিরুদ্দেশ,পেট ভরে খাবো বেশ

উন্নয়নের প্রস্তরখণ্ডের গায়ে শ্লোগান "ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ"।
হতভম্ব হয়ে যাই আমি,শঙ্কিত হয়ে যাই। অসুন্দর এবং ভয়ানক এই শ্লোগান যদি বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয়ে যায় তবে বেঁচে থাকাটাই বৃথা হয়ে যাবে।

ভয়ানক ক্ষুধার পর ভরপেট খাওয়া মানুষটার মুখে স্বর্গের মতোন হাসিটা আর দেখতে পাবোনা বলে।
"আম্মারে দু'গা ভাত বারি দে ত।স্কুলে ভাত লই যাই ন,দুগা ভাত খাই চাই"। ভাত খাওয়া শেষে শ্রান্ত মা আমার ঢকঢক করে পানি খাবার সময় যে তৃপ্তি ফুটে উঠে তা আর দেখতে পাবোনা বলে।মা আমার কাছে ভাত চাইবেন না বলে।

ইটভাঙা শ্রমিকের ভাত খাওয়া দেখেছেন কখনো?ইটের পাশে বসেই মুহূর্তেই আলুভাজি আর ভাত গায়েব করে দেওয়ার সময়টায় তার মুখজুড়ে যে অনৈচ্ছিক উচ্ছাস ফুটে উঠে তা শরতের আকাশ অথবা বর্ষার কদমফুলের অগুনতি গুণ সুন্দর।

ক্ষুধা নিরুদ্দেশ হলে একা নিরুদ্দেশ হবেনা দেশ থেকে শেশ কটা সুন্দর দৃশ্য নিয়েই নিরুদ্দেশ হবে।
কোনোভাবেই তাই ক্ষুধাকে নিরুদ্দেশ করার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবেনা।

বরং,
ক্ষুধা লাগবে,ভরপেট খাবো,আবার লাগবে আবার ভরপেট খাবো।এভাবে অগুন্তিবার..
ইচ্ছেমত ভরপেট খাবার মতো উন্নয়ন হোক,নিরুদ্দেশ হোক দারিদ্র।
আমরা ভরপেট তৃপ্তি নিয়ে খেতে চাই।ভরপেট খাওয়ার পর স্বর্গের মতোন সুন্দর অগুনতি হাসিমুখ দেখতে চাই।

শ্লোগান হোক,
 "দারিদ্র নিরুদ্দেশ,পেট ভরে খাবো বেশ"।

Comments

Popular posts from this blog

আমি শুনি আমার লাশ কাটার শব্দ

প্রেম অথবা ক্ষোভের পত্র