হয়তো প্রিয় শব্দটাও খুব আপেক্ষিক,এখানেও আছে ভেজাল

প্রিয়তমা,আকাশে ঠিক কতো তারা জাগলে আমাকে মনে পড়ে তোমার?
ক'টা উল্কাপিণ্ড ঝরে গ্যালে আমাকে ভুলে যাবার আয়োজনটা জমকালো হয়ে ওঠে?

কোন পুরুষের কন্ঠস্বর তোমাকে ঝিঁঝিঁর ডাকের মতোন
করে নিয়ে যায় সেই সবুজ শৈশবে?
যখন আমরা এতোটা শহুরে হয়ে উঠতে পারিনি,বাড়ির পাশে যখন লেবু গাছটা ছিলো,পুকুর পাড়ের পুরোনো শিমুল গাছটা ছিলো যখন,কুমড়োর মাচাঙে দোয়েলের শিস ভেসে আসা সকাল-
সেই শৈশবটায়?

সাপ্তাহিক হাটবারে দাদা প্রত্যেকবার  যখন তার বুড়ির জন্য সুপারি,পান,জর্দা নিয়ে ফিরতেন,দাদী অপেক্ষা করতেন তাঁর প্রিয় বুড়োর জন্য,
সে কথা মনে পড়লে তোমার কি ইচ্ছে জাগে আবারো সরল গ্রাম্য মানুষ হয়ে যেতে?

নাকি-
তোমার সেসবে আর আহ্লাদ জাগেনা?
প্রিয়তমা,আমি আজো প্রায়ই স্তব্ধ হয়ে যাই এই ভেবে, সেসব সোনালী দিনগুলা আমাদের কিংবা এ প্রজন্মের শহুরে অথবা শিক্ষানবিশ আধুনিক মফস্বলে আর কখনো ফিরবেনা।
প্রিয়তমা,তোমার কি একটটু ও কষ্ট হয়না এই ভাঙনমুখী সভ্যতার কথা ভাবতে?

নাকি-
তুমি ও মিশে গ্যাছো এই আধুনিক আর সস্তা জীবনধারায়?
ভাবতে শিখেছো "মানুষ বদলায়,সম্পর্ক ও চিরন্তন নয়।"?

এখন আর দখিনের বাতাস কিম্বা নক্ষত্ররজনী প্রিয় মানুষকে মনে করিয়ে দেয়না।
হয়তো প্রিয় শব্দটাও খুব আপেক্ষিক,এখানে ও আছে ভেজাল।

Comments

Popular posts from this blog

দারিদ্র‍্য নিরুদ্দেশ,পেট ভরে খাবো বেশ

আমি শুনি আমার লাশ কাটার শব্দ

প্রেম অথবা ক্ষোভের পত্র